পরীক্ষার দিন সকালে গতরাতের ভাত কড়কড়া করে মা নাস্তায় দিলেন।বাবা বললেন 'পরিক্ষায় পাশটাশ করবি তো দেখিস'!।বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় বাবা পকেট থেকে দুই টাকা বের করে হাতে দিলেন।অন্য সময় হলে ভুলেও দিতেন না।বের হচ্ছি মা বললেন 'রাস্তাঘাট দেখে পার হোস বাবা, আর তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরবি কিন্তু'।হার্ডবোর্ড বুকে জড়িয়ে আসমা, রোজিনার সাথে পরিক্ষা দিতে গেলাম। পরিক্ষা শেষে দুই টাকা দিয়ে ভুট্টা চাবাতে চাবাতে বাড়ি ফিরলাম।
এই ছিলো আমাদের পরীক্ষার হালচাল। কিন্তু আজকাল পরিক্ষার দিন ঘনিয়ে আসলে দেখতে পাই সন্তানের চেয়ে মা বাবা উদ্বিগ্ন।বাবা মা পরীক্ষা দিতে যাবে।পরীক্ষার আগের রাত থেকে তাদের টেনশান শুরু হয়।অনেক পিতামাতা ঠিক মতো খাওয়া দাওয়া করেন না। সন্তান পরীক্ষা দিয়ে এসে সন্তোষজনক উত্তর দিলে তখন তৃপ্তি করে এক গ্লাস পানি গিলেন।তারপর আরেক পরীক্ষার প্রহর গুনতে থাকেন।
বাবা মা'র এই উদ্বিগ্ন এবং বাড়তি চাপ সন্তানের ওপর ভর করে।পরীক্ষা অন্যদিকে পিতামাতার উদ্বিগ্নতা তাদেরকে আরোও চাপে ফেলে। তখন সন্তানের কাছে পরিক্ষা আর পরিক্ষা থাকে না।পরীক্ষা নামক বস্তু জগদ্দল পাথরের মত বুকের ওপর চেপে বসে।একটি করে পরীক্ষা শেষ হয়, তখন ওই জগদ্দল পাথরের ভার বুক থেকে একটু একটু সরতে থাকে।
আজকাল পিতামাতারা পরীক্ষা ছাড়া সন্তানের মাথায় ভালো চাকরি, ভালো ক্যারিয়ারের ভূত চাপিয়ে দেন।এই ভূত তাদেরকে সারা জীবন তাড়া করে ফিরে। পরিক্ষা মানে তো আর জীবন না। ভালো চাকরি, ভালো ক্যারিয়ার গড়া ছাড়াই সমাজের অনেক মানুষ দিব্যি সুখে আছেন।ভালো ক্যারিয়ার গড়ার পরও অনেক মানুষ শান্তিতে নেই এমন উদাহরণ এই সমাজে ভুরুভুরি।যেসব মানুষ পরীক্ষায় ভালো ফলাফল, উন্নত ক্যারিয়ার নিয়ে জীবন শুরু করে, এরা মানুষ হিশেবে রোবট ছাড়া আর কিছুই না। এরা কর্পোরেট শ্রেণির গোলাম হয়ে জীবন পার করে। জীবনকে জীবনের মতো কখনও তারা উপভোগ করতে পারে না।
সন্তানকে পরীক্ষা জিনিসটা বুঝতে দেবেন না।পরীক্ষার দায়ভার তাদের ওপর ছেড়ে দিন।পরিক্ষায় ফলাফল ভালো করলে ভালো,না করতে পারলে সে তার জন্য ভালো পথ এক সময় বের করে নেবে।এটা মনে রাখবেন পরিক্ষা মানেই জীবন না।পরিক্ষা দিয়ে বেশি থেকে বেশি ভালো একটা চাকরি পেতে পারে। সুন্দর, সুখের জীবনের স্বপ্ন পরীক্ষায় নেই। প্রকৃত সুখ, শান্তি তো টেনশান আর চাপমুক্ত জীবনের মধ্যে। আমার কাছে পরীক্ষা মানে রসমালাই।
লেখকঃ Md Mahmoud Hasan
https://www.facebook.com/hasanazad.azad.7
Comments
Post a Comment